সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক স্কুলছাত্রী প্রেমিকাকে পার্বতীপুর থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে মিথ্যে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ধর্ষণের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রেমিকসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা হচ্ছে, শহরের গোলাহাট পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকার মো. নাসিম আলমের ছেলে প্রেমিক খুরশিদ আলম সিফাত (১৭) ও তার সহযোগী ইসলামবাগ বড় মসজিদ পুরাতন ঈদগাহ এলাকার মৃত. মুন্নার ছেলে মো. সাকিব (১৬)।
থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকার আরশিদ আলীর নাবালিকা স্কুল ছাত্রী (১৪)। প্রায় ১০ বছর যাবৎ বাবার পেশাগত কারণে সে পরিবারের সঙ্গে সৈয়দপুরের পাশে দিনাজপুরের পার্বতীপুর শহরের রোস্তমনগর এলাকায় বসবাস করে আসছে। সেখানকার একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করে সে। তবে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সৈয়দপুরের বাড়িতেও আসা যাওয়া করতো সে। আর প্রায় এক বছর আগে সে স্বপরিবারে তার চাচাতো ভাইয়ের বিয়েতে সৈয়দপুরের বাড়িতে এসে সপ্তাহখানেক অবস্থান করে। সে সময় একই এলাকার নাসিম আলমের ছেলে খুরশীদ আলম সিফাতের সঙ্গে ওই স্কুল ছাত্রীর পরিচয় ঘটে। আর ওই পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের দুইজনের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথাবার্তার এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর থেকে প্রেমিক সিফাত প্রেমিকাকে বিভিন্ন রকম প্রলোভন দেখিয়ে তার মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে। এ অবস্থায় চলতি বছরের গত ১১ জানুয়ারি প্রেমিক সিফাত মোবাইল ফোনে প্রেমিকা স্কুল ছাত্রীকে সৈয়দপুর শহরে এসে দেখা-সাক্ষাৎ করতে বলে। আর প্রেমিকাও সরল মনে প্রেমিকের কথা বিশ্বাস করে দেখা সাক্ষাৎ করতে সৈয়দপুর শহরে আসে। এরপর প্রেমিক সিফাত তার সহযোগী শহরের ইসলামবাগ বড় মসজিদ পুরাতন ঈদগাহ্ এলাকার মৃত. মুন্নার ছেলে মো. সাকিবের বাড়িতে কৌশলে নিয়ে যায় প্রেমিকাকে। সেখানে লম্পট প্রেমিক সিফাত প্রেমিকাকে তার সহযোগীর শয়ন কক্ষে নিয়ে গিয়ে মিথ্যে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এর কিছুদিন পর প্রেমিক সিফাত আবারও প্রেমিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার কু প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তার প্রেমিকা এতে রাজী না হওয়ায় সিফাত তাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং সৈয়দপুরে আসার জন্য চাপ দিতে থাকে। এ অবস্থায় গত ১ জুন ওই প্রেমিকা ভীতসন্তস্ত্র হয়ে পড়ে এবং প্রেমিকার চাপে ও কথামতো আবারও প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে সৈয়দপুরে আসে। ওই দিনও প্রেমিক সিফাত একই কায়দায় তার সহযোগী সাকিবের বাড়িতে তাকে আবারও ধর্ষণ করে। আর তার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন দিয়ে কৌশলে প্রেমিকার ধর্ষণের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে গত ১৬ জুন প্রেমিক সিফাত পুনরায় তার প্রেমিকাকে শারীরিক সম্পর্ক করার কু-প্রস্তাব দেয়। এতে প্রেমিকা রাজী না হলে এবং ঘটনাটি অন্য কাউকে জানালে প্রেমিক সিফাত প্রেমিকাকে ধর্ষণের নগ্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে মর্মে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। এতে নাবালিকা প্রেমিক মারাত্মক ভীত হয়ে পড়ে এবং ঘটনাটি তার মাকে অবগত করে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার (৩ জুলাই) স্কুল ছাত্রীর মা মোছা. আসফানা (৪৩) নিজে বাদী হয়ে খুরশীদ আলম সিফাত এবং তার সহযোগী মো. সাকিবের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সৈয়দপুর থানার মামলা নং – ৬, তারিখ: ৩/৭/২৪ইং। ধারা: ৮(১)/৮(২) পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন -২০১২ তৎসহ ৯(১)/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) ধর্ষণ করা ও সহায়তা তৎসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইস দ্বারা নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মানসিক নির্যাতন করার অপরাধ। এদিকে, সৈয়দপুর থানায় ওই মামলা দায়েরের পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার আসামীদেরকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
প্রেমিকাকে ডেকে এনে মিথ্যে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণের ঘটনায় মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সৈয়দপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম রাসেল পারভেজ। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামীদেরকে নীলফামারী আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।